Monday, April 19, 2010

ছ'নম্বর পার্শিবাগান লেন, কলিকাতা সাতলক্ষনয়

ছ'নম্বর পার্শিবাগান লেন, কলিকাতা সাতলক্ষনয় ।    
মনে পড়ে যায়...
দুপুরবেলার নিঝুম স্মৃতি
শান্ত পায়ে পথের চলা 
ক্লান্ত গায়ে কথা বলা 
রাজাবাজার কলেজ পারে  
ট্রামলাইনকে ক্রস করে  
এপিসি রোড ছুঁতো শেষে
ছ'নম্বর পার্শিবাগান লেন, কলিকাতা সাতলক্ষনয় । 
আমরা তখন স্নাতোকোত্তর..
আমরা খোলা হাওয়া
স্বপ্ন নেশা চোখে মেখে
রঙীন হয়ে যাওয়া  
খগেনদাদার  চায়ের  ঠেকে,
ল্যাবের সেই কোণার মাঝে
মিনিট পাঁচেক জিরেন হত
টেস্টটিউব টা হাতে নিয়ে
ছ'নম্বর পার্শিবাগান লেন, কলিকাতা সাতলক্ষনয় ।
সুলগ্নার বাসের প্রেমিক,
কমলিকার দেখতে আসা,
সুদীপের স্বপ্ন দেখা
বিদেশ যাবার কত আশা !
অমৃতা আর সুমন জুটি
পাশাপাশি থাকত কেবল
গোপন প্রেমের কেমিস্ট্রিতে
গসিপ গিলি সবাই তখন
সূয্যি ডোবে আঁধার নেমে আসে
ছ'নম্বর পার্শিবাগান লেন, কলিকাতা সাতলক্ষনয় ।
ফার্স্ট ইয়ারেই ভিসা পেল
সুমন-অনীক-জয়দীপরা
হলনা কো অমৃতার 
সুমনের সাথে বাড়ি ফেরা 
র‌ইলো পথের ধূলোগুলো   
উড়ে গেল কিছু
র‌ইলে নীরব প্রেমের তুমি
সাক্ষী হয়ে শুধু
ছ'নম্বর পার্শিবাগান লেন, কলিকাতা সাতলক্ষনয় ।
আমরা তখন সেকেন্ড ইয়ার
একশো কুড়ি জন 
কফিহাউস, ব‌ইপাড়া, জটিল সমীকরণ 
উতল হাওয়ায় উড়ে গেল
টেষ্টটিউবের রঙীন জলে
না বলা কথারা র‌ইল পড়ে
কফিহাউসের সাদা টেবিল লিনেনে
র‌ইল  ছোঁয়া  সাতাশি সালের ব্যাচ
র‌ইলে তুমি পড়ে
ছ'নম্বর পার্শিবাগান লেন, কলিকাতা সাতলক্ষনয় ।  

Wednesday, April 14, 2010

"সোনার তরী" র সকল পাঠকবন্ধুকে জানাই নববর্ষের অভিনন্দন !!

 শুভ ১৪১৭
এসো বোশেখ, বস ! তুমি বাজাও আমি শুনি
এসো বোশেখ, বস ! তুমি দাও আমি গুনি
পারলে দিও বৃষ্টির বর্ণমালা  একমুঠো
একটা কি দুটো কালবোশেখি,
পারলে  নিও আমার তাপের ভার
তবুও তুমি না এলে হয়ত পূর্ণ হবেনা একরাশ আশা,
এক ভর্তি জলভরা মেঘেদের ভেলায় চড়ে ভাসা.. 
সেদিন যেমন এসেছিলে তুমি 
কালবোশেখির কোলে চেপে, 
মধ্যদিনে আঁধার করে  
ঠান্ডা হাওয়া জাপটে ধরে.... 
এসো তুমি বোসো তুমি  ! 
কাল বিকেলে চৈত্রের আগুণ সূর্যের ভাসান
গঙ্গাতীরে, সে কি আলো!  
একটু বাদেই মনে পড়ে গেল
আজ তোমার আসার কথা   
চৈত্রের বিদায়বেলায় সেই খেয়া চলে গেল দূরে, বহুদূরে ..
রেখে গেল সেই সারি গান, ভাটিয়ালির ঝিমধরা নেশা, 
আবার স্বপ্ন জাল বোনা শুরু হবে 
জ্বলে উঠবে কত আশার রং দেশলাই  
কত নিরাশার ফুলঝুরিরা ছিটকে সরে যাবে দূরে, অনেক দূরে ..
মেঘের ঢাকনা খুলে বেরিয়ে আসবে একরাশ হাসি,  
এক মুঠো রোদের কণা ঝরে পড়বে প্রথম সকালে 
আর টুপটাপ ঝরে পড়বে জলের কণারা  বিকেলমেঘ থেকে


Sunday, April 4, 2010

ছুটি

১৯১৪ সালে পূজোর ছুটির পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গয়া থেকে বেলা যাবার পথে রেলওয়ে ওয়েটিংরুমে বসে লিখলেন পথের গান


"পান্থ তুমি পান্থজনের সখা হে,
পথে চলাই সেই তো তোমায় পাওয়া
যাত্রাপথের আনন্দগান যে গাহে
তারি কন্ঠে তোমারি গান গাওয়া"

জানি বিদায়ী ফাগুণের গায়ে এখন চোখঝলসানো চৈতী আগুণ কিন্তু ছুটির অমোঘ আকর্ষণ আমাদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ল গুডফ্রাইডের ভোরে খড়গপুর থেকে বোলপুরের পথে... "তোমায় নতুন করে পাবো বলে" |    দেখা হয়েচে বহুবার চোখ মেলে, তবুও ঘর থেকে দুপা ফেলেই আবার হাঁটি চেনা পথে, আবার নতুন করে আবিষ্কার করি গ্রামবাংলাকে।পথের আকর্ষণে বেরিয়ে পড়ি বারবার, কালের গাড়ি আরোহন করে। লিখে চলি পথের পাঁচালী । ভোর ৬টায় শুরু করি যাত্রা, সঙ্গে একথার্মোস চা, কিছু কুকিস, মাফিন  আর কয়েকটা কচি শশা নিয়ে ।




ন্যাশানাল হাইওয়ে ৬০ ধরে পূবের আলোয় পশ্চিম মেদিনীপুরের পথে, শহর মেদিনীপুরকে পাশ কাটিয়ে জঙ্গলমহলের রাস্তা ধরে । একে একে পড়ল সারি সারি শালগাছ অধ্যূষিত গোদাপিয়াশাল, শালবনী, গড়বেতা ইত্যাদি  গ্রামগুলি, পেরোলাম কংসাবতী আর শীলাবতী নদী । শুনেছি মাওবাদীদের জায়গা এই জঙ্গলমহল ।  সকালের মিষ্টিরোদ এসে পড়েছিল তখন শালবনের মাথায়, বসন্তের কচি সবুজপাতায় । চেনাপথ যেন আরো নবীন সজীবতায় ভরে উঠছিল । 




গড়বেতা পার হয়ে বিষ্ণুপুরের পথে পা বাড়ালাম । এই রাস্তা নাকি  হাতি পার হবার করিডোর  ...বালুচরীর জন্মস্থান, টেরাকোটার ঘোড়ার দেশ, গ্রামবাংলার চালার অনুকরণে তৈরী অত্যন্ত সুন্দর সব  মন্দিরের হাট এই বিষ্ণুপুরে। কত নাম না জানা মন্দির যত্রতত্র বিরাজমান ;  পোড়ামাটির নিখুঁত  স্থাপত্য মন্দিরের গায়ে এখনো শোভা পাচ্ছে । এইখানে হাতি দেখা কাপালে থাকতে হয় ; যাই হোক ভয়ে ভয়ে আমরা নিলাম প্রথম হল্ট,  ধূমায়িত চা আর মাফিন দিয়ে ব্রেকফাস্ট সারলাম। আবার শুরু পথচলা। এবার বাঁকুড়ার রাস্তা ধরে কিছুক্ষণের মধ্যে স্টেট হাইওয়ে ৯ ধরে বড়জোড়ার পথে.. আবার পেরোলাম শাল-ইউক্যালিপটাসের বন, হাতি পার হওয়ার করিডোর । শুনেছি বরজোড়ার "মন্ডা"  নাকি একটি বিখ্যাত মিষ্টি তবে এখন অনেক নকল বেরিয়েছে তাই সে পথে পা বাড়ালাম না । কিংবদন্তীর আড়ালে লুকিয়ে আছে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন তৈরী হবার সময়কার চিতাবাঘের গল্প।   এখন সেখানে শুধু মেজিয়া পাওয়ার প্ল্যান্টের  ধূসর  ফ্লাই-এশ বহনকারী ট্রাকের সারি। নগরায়ন তথা বিশ্বায়ন তো দূরের কথা এখন শিল্পায়নে ব্রতী হয়ে আমরা  "অরণ্যমেধ"  যজ্ঞে সামিল হয়েছি।


পর্যাপ্ত  ধূসর উড়ন্ত ছাইকে সবুজ পথের সাথী করে আমরা পেরোলাম  দ্বারকেশ্বর আর গন্ধেশ্বরী নদীর সেতু।এই দ্বারকেশ্বর নদী সাহিত্যের পাতায় জনপ্রিয়  বিদ্যাসাগরের জন্য । মায়ের কাছে পৌঁছেছিলেন রাতারাতি দ্বারকেশ্বর সাঁতরে বাঁকুড়া থেকে মেদিনীপুর । বিদ্যাসাগরের মাতৃভক্তি চিরস্মরনীয় ।  সেই কারণে দ্বারকেশ্বর পেরোতেই স্মরণ করলাম তাঁকে।
এরপর  গোল্ডেন কোয়াড্রি ল্যাটারালের কোলকাতা-দিল্লী শাখায়  ওরফে শেরশাহ সুরীর তৈরী গ্র্যান্ড- ট্রাঙ্ক-রোডে  পড়ে  পানাগড় অবধি গিয়ে মোরগ্রাম হাইওয়ের বাঁকে ঘুরে  ইলামবাজারের জঙ্গলে গিয়ে পড়লাম। মধ্যে পেরোলাম অজয় নদী। তারপরেই কবিগুরুর কর্মভূমিতে,  ছাতিম, শিমূল, পলাশের শহর শান্তিনিকেতনে।  বসন্ত নেই এখন আছে চৈতীর চোখ ঝলসানি রোদ আর রাতে একটু ঠান্ডা হাওয়া ।শ্র্রীনিকেতন, বিশ্বভারতীর আশ্রম পেরিয়ে বনপুলক, শ্যামবাটি, তালতোড়কে  সরিয়ে রেখে আমরা দুপুর সূর্যকে মাথার ওপরে রেখে পৌঁছলাম  প্রান্তিক। আমাদের "সোনারতরী" ফেজ ১, আবাসনের ক্ষুদ্র বাগান বাড়ি যার নাম "কৃষ্ণকলি" । রবীন্দ্রনাথ ছাড়া ভাবতে পারিনা এখানকার কোনোকিছুকেই তাই বাড়ির নাম করণেও রাবিন্দ্রীক হয়ে পড়েছিলাম।


বাড়ির পাশেই ক্যানালের জল বয়ে চলেছে । যদিও ভরাবর্ষায় এই জলের অমোঘ আকর্ষণ আমাকে আরো টানে। সোনাঝুরির ছায়ায় প্রান্তিকের বনবীথি যেন ঘুরে ফিরে নতুন করে ধরা দেয় আমার কাছে। অনতিদূরে কংকালিতলায় মাকালীর মন্দিরের আকর্ষণও দুর্নিবার ।  ৫ সতীপিঠের একটি এটি; দক্ষযজ্ঞের সময় সতীর খন্ড দেহাংশের কাঁখাল অর্থাত কোমরের অংশ বিশেষ পতিত হয় এখানে ...একটি কুন্ডে। আর পাশে উত্তরমুখে প্রবাহিনী কোপাই নদী সংলগ্ন এলাকায় শ্শ্মশান । আমি এই জায়গায় এলে কিছু মাহাত্ম্য অনুভব করি।  


প্রতি শনিবারে খোয়াইয়ের পথে হাট বসে । এটি ও আর কোথাও দেখিনি। সূর্যাস্তের ঠিক ঘন্টা দুয়েক আগে থেকে বসে এই হাট। কত শিল্পীরা নিজ নিজ শিল্পের পসরা সাজিয়ে বসেন সেখানে আর সাথে থাকে বাউলের গান । রাঙামাটির পথ ধরে আমরাও পৌঁছে যাই সেখানে । ডোকরার গয়না, কত রকম ফলের বীজ দিয়ে তৈরী গয়না, কাঁথার কাজের বাহার, পটশিল্প,  বাউলগানের আনুষাঙ্গিক বাদ্যযন্ত্র, তালপাতা, পোড়ামাটির কাজ, বাটিকের কাজ আরো কত কিছু এনে তারা বিক্রি করে । কিন্তু অন্ধকার হবার পূর্বমূহুর্তেই পাততাড়ি গোটাতে হয় তাদের ।  


এই নিয়ে আমাদের ২৪ বার যাওয়া হোল শান্তিনিকেতন । তবুও সে পুরোণো হয় না। আমি কিন্তু কোলকাতার হুজুগের  আম জনতার মত পৌষমেলায় কিম্বা বসন্ত উত্‌সবে আসি না এখানে । কারণ ভীড় আমার ভালো লাগেনা । দু একবার দেখেছি পৌষমেলা, গেছি বসন্ত উত্‌সবে । কিন্তু আমাদের চিরসখা "নিরালা" কে তখন পাইনা,  কাব্যের উঠোনে হোঁচট খেতে হয়,  ব্লগের আঙিনায়  নতুন পোষ্টের জন্য কল্পলোকের ইশারা থাকেনা । এখানে আসি লিখতে, ভাবতে, লেবু ফুলের গন্ধ নিতে, পলাশের একটুকু লালকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে আর সর্বোপরি মাস তিনেকের বাঁচার রসদ আর শ্বাসবায়ু নিতে।  আমার ছোট্টবাগানের ফুলেদের সাথে কথা বলে আসি । পাখিদের সাথে গান গেয়ে যাই ।  আর খবর নিয়ে যাই কৃষ্ণকলির, তাকে ভালো থাকতে বলি,  সবুজে আর নীলে মিশে সুন্দর থাকতে বলি ।

Monday, March 29, 2010

সহেলী-সমালি-সমাচার


সহেলী:                                                      
শহরের প্রাণকেন্দ্রে, তিনতারা হোটেলে,
আলো-আঁধারের ডিস্কোথেকে, 
এসে শোনাই গান রঙিন পোশাকে, 
আজও এসেছি..
কিন্তু কোনোদিন এমন হয়না,
ভুলে থাকি গানে,
লাস্যময়ি হাস্যময়ী শ্রীময়ী রূপে...
আমি এখন মিস্‌ সহেলী, নিইনা পদবী, 
জানি না তোর নাম আমি,
কৃষ্ণা, কেয়া কিম্বা করবী। 
কিন্তু কোথায় যেন দেখেছি তোকে?
শুধাই নিজের মনে নিজেকে..
সমালী:
কেন খালি চেয়ে থাকো?
কলেজে পড়ি সেকেন্ড ইয়ার,
নাচতে পারিনাকো!
তোমার গলা চেনা নয়,
তবু গায়ের গন্ধ কেন চেনা মনে হয়!
সহেলী:
আজ কেন আমার নাচের তাল কেটে যায়... 
বারবার কেন স্বররূদ্ধ হয়ে যায়,
চেনাগানের কলিও অকারণে হরিয়ে যায় অবচেতনে
আমি খালি চেয়ে র‌ই তোর মুখপানে...
কি নাম তোমার? থাকোই বা কোথায়?
আছো কেন একা বসে এই সন্ধ্যায়?
সমালী:
আমি সমালী, মায়ের দেওয়া নাম কমলিকা,
বন্ধুরা আসবে এখুনি, ততক্ষণ বসে একা, 
জন্মদিন আমার আজ ..
তুমি কি গান গেয়ে মাতাবে আজকের সাঁঝ?
সহেলী:
সোমত্ত মেয়ে তুমি একা কেন এলে? 
সন্ধ্যাবেলা শহরের এই হোটেলে...
সমালী:
আমি তো অনাহুতা, রবাহুতা, অবাঞ্ছিতার দলে 
বাঁচিয়ে রাখার ঋণে আমি চিরঋণি গৌতমীমার কাছে,
নিয়েছে কোলে তুলে অভগিনী এই শকুন্তলাকে, 
তবুও পাইনি সুখের খোঁজ, দেখিনি সৌভাগ্যের মুখ! 
ছিল যে জন্মলগনে আস্তাকুঁড়ের  অভিশাপ!
সহেলী:
কেন তুমি দাও না ধরা মোরে,
কেন রাখো? না বলা কথা বুকের মাঝে ধরে ?
সমালী:
বাবার ব্যবসা জানি, তবে মা যে নয় নিজের আমার,
পাড়ার লোক বলে তাই ;
কোনো এক শীতের ভোরে, বাবা এনেছিল আমায় বাড়ি,
চট জড়ানো ন্যাকড়া গায়ে, ঠিক যেমন করে পড়ে থাকে
নেংটি ইঁদুর, কুকুর ছানা অবহেলায় পথের ধারে...
গাড়ি চেপে এলো বাড়ি, এলো সেই মেয়ে,
ফুটলো কমল কপাল জোরে,
কমলিকা নাম দিল সে, 
বুকের মাঝে আঁকড়ে ধরে, যত্নে, সুখে মানুষ করে...
স্কুল পাঠিয়ে বড় করে,
কিন্তু কেন জানি কৃত্তিমতার স্পর্শ অনুভূত হয় সেই বাত্‌সল্যে? 
কেন জানি সম্পর্কের গভীরতায় প্রবেশ করতে পারিনা..
তোমায় কেন এত কথা বলে নষ্ট করি তোমার সময়,
চেনা চেনা মুখ, ডাকে কাছে আয়..
বলো না কে তুমি?
বন্ধুরা এসে পড়লো বলে...
সহেলী:
আজ আর গাইব না গান আমি,
তোর ডান গালের ঐ কালো জড়ুল,
বুঝিয়েছে মা তুই যে আমার,
আমার প্রাণের প্রথম প্রেমের তুই যে ফসল,
যৌবনের‌ই রঙিন জলে, ভেসেছিলেম দুজন মিলে,
ভাবিনি যে ফিরে পাবো, আবার দেব ভুলের মাশুল ! 
সমালী:
বেশ তো, তবে চলো আমার সাথে,
ভুলের মাশুল দিয়োখনে সেথায় আজ রাতে,
সহেলী:
না সে হয়না সমালী, না কমলিকা,
কেউ মানবে না আজ আমার কথা আমি যে আজ একা !
কেনই বা করবি ক্ষমা ?
পারেনি যে মা দিতে তোরে কোল একদিন,
বাধেনি তার একটুকুও ছুঁড়ে ফেলে দিতে,
সেই কঠিন পথের ধূলার পরে,
নরম শিশুর কান্না ঝরে!
সমালী:
যদি আমি বলি তাদের, যদি আমি সাক্ষী দিই, 
মায়ের সেই মেয়ে হয়ে যদি পরিচয় দি‌ই,
যদি একবার ডাকি মা বলে..
ভুলে যাই সব, ভুলে যাও সব,
বাঁচি মোরা দুজনে আবার নতুন করে । 

"সহেলী-সমালী-সমাচার"  এই কাব্যনাট্যটি তিনসুকিয়া কলেজ অসম থেকে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা "প্রজ্ঞান" ২০১০ মার্চ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে

Tuesday, March 9, 2010

"আজও বেঁচে আছি রে"

তোর মন ভালকরা এস.এম.এস
আমার অক্সিজেন,
তোর মিসডকল আমার ওয়েসিস
তোর হাতের ওপর হাত রেখে
আজও শুনতে পাই কত কান্না ছিল
একসময় তোর বুকে...
তোর মায়ের ক্যানসারের যন্ত্রণা
তোর ভায়ের কম্পার্টমেন্টাল
তোর বাবার শেয়ার মার্কেটের লস
তোর দজ্জাল শ্বশুরবাড়ির ষড়যন্ত্র,
আয় তুই বল আমার কাছে, 
আমিও আজ তোর মত ইনসমনিয়ায়
বন্ধুত্ব আজ কুইনাইন
ঝর্ণাকলমের কালি বন্ধ্যা কাগজে 
কবিতার ভ্রূণ সঞ্চার করতে আজ অক্ষম 
দ‌ইবেচার কত সুখ অমল বোঝেনি সেদিন
আমি কিন্তু বুঝেছি,
কফিহাউসের অমলের মত
কত অপ্রকাশিত কবিতারা
আজও আমার গলার মধ্যে দলা পাকিয়ে 
কিন্তু আজও বেঁচে আছি রে  

Saturday, February 27, 2010

WISHING YOU ALL A VERY "HAPPY HOLI"


বসন্ত মানেই কৃষ্ণচূড়া , পলাশ, শিমূল ও অশোকের রেঙে ওঠা প্রকৃতি। বসন্ত মানেই সেই আগুণে মেতে ওঠা, দখিনা বাতাসের উড়নী গায়ে জড়িয়ে আবীরে মাখামাখি, বসন্ত মানেই মনের দোলা, ফাগুনের সকালে দোল খেলার পালা। আজ আমাদের দোল একটু ভিন্ন স্বাদের । একালের দোল আর সেকালের দোলে আকাশ্-পাতাল তফাত। আজ আমাদের দোলে পাড়ার কচি-কাঁচারা দোল খেলেনা,বরংএকটু ছুটির আমেজে দেরি কোরে ঘুম থেকে উঠে হোমওয়ার্ক করার প্রস্তুতি নে য়। কারন এখনকার দোলে সব স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলতে থাকে। তাই তাদের কোন উপায় থাকে না। ছোট বেলায় বাড়ীতে সত্যনারায়্ণ পূজো হতে দেখেছি। ভোর থেকেই পূজোর গোছগাছ, স্নান সেরে ফাঁকে ফাঁকে একেওকে আবীর দেয়া, গুরুজনদের পায়ে আবীর দেয়া ও গৃহদেবতার ছবিতে আবীর দিয়ে প্রণাম করা ..

কিন্ত কোথায় আজ আমাদের দোল? আমদের দোলে আজ ফুট্-কড়াই-মুড়কি-মঠ এর স্থান নেই; ছেলেরা বাজারে গিয়ে রঙীন মঠ কেনার বায়না করে না। বরং এগরোল, বার্গার বা পিত্জা চায়।

আজ আমাদের দোলে সান্ধ্য অধিবেশনে ফাগফাগুয়ার খেলা চলার পর সাদা পাথরের গ্লাসে সিদ্ধির সরবতের বদলে স্থান করে নিয়েছে সুদৃশ্য কাট্-গ্লাসের সুরাপাত্রের রেড্-ওয়াইন। আমাদের প্রজন্ম দোলের মাহাত্ম্য বোঝে কিনা জানিনা তবে বিশ্বায়নের আবীর গায়ে মেখে কেবল্ টিভি , মোবাইল ফোন্, আইপড্, এফ্-এম রেডিও এবং যন্ত্রজালে  প্রচুর গবেষ
ণা চালিয়ে যচ্ছে।

এখন আবীরের রং এর বিভিন্নতা ও প্লাস্টিক পিচকারির বৈচিত্র্য দেখে ছোটোবেলার জন্য মন কেমন করে কিন্ত আমাদের রং এ ছিল আরো উজ্জ্বলতা ও গন্ধে ছিল আরো মাদকতা।

আমরা ছোট ছোট নিউক্লিয়ার পরিবারের সদস্য, দোল উপভোগ করবই বা কার সংগে ? র্ংই বা দেব কার গায়ে? আমার গায়ে রং দেবে এমন সময়ই বা আছে কার্? র্ং খেলে সময় নষ্ট না করে কিশোররা এখন নেট সার্ফিং করে, "সোশাল নেটওয়ার্কিং" সাইটে ঢুকে র্ং খেলে, বন্ধুকে ই-গ্রিটিংস পাঠায় দোলের জন্য ; বা এস্-এম্-এস্-এ হোলির শুভেচ্ছা জানায়। আরো পাকা-পোক্তো হলে মাল্টিপ্লেকসে ঘুরে বেড়িয়ে চাড্ডি ফাস্ট ফুড খেয়ে দেয়ে দিব্যি করে বাড়ী ফেরে। দোল কেবলই ছুটির দিন একটা।

যেসব বাড়ীতে দোলের বৈঠকী বসে তারা অবশ্যই এর ব্যতিক্রম। সেখানে গানের আড্ডা বসে সকাল থেকে, যেখানে ব্রজগোপীদের র্ং খেলা থেকে শুরু করে গৌর আবির্ভাব্, পুরাতনী, রবীন্দ্র্নাথ্, নজরুল সকলকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়ে। আজ আমাদের দোলের আগের রাতে ন্যাড়া-পোড়া হাতে গোনা যায়। পর্যাপ্ত প্লাসটিক পূর্ণ পরিবেশে ন্যাড়া-পোড়া নিষিদ্ধ। বিদায়ী বসন্তের সাথে সাথে পুরানো আবর্জ্জনার দহন পরিবেশকে কিছুটা মুক্ত করে "মুছে যাক্ গ্লানি" , ঘুচে যাক্ মলিনতার সংগে নতুন বছরকে "এসো হে বৈশাখের" বার্তা শোনাতে পারত, কিন্ত আজকের দিনে ন্যাড়া-পোড়া আযোজন করবে কে? কোথায় বা আছে খোলা মাঠ?

এখনকার ট্রেন্ডি-টিনরা এসব নিয়ে মোটেই মাথা ঘামায়না। আমরা কত উন্নত ও যান্ত্রিক হয়েছি আজ। Motion-এর চাপে সব Emotion উবে গেছে কর্পূরের মত ।দোল প্রতি বছর পরিযায়ী পাখীর মত আসবে আবার চলেও যাবে। কিন্ত দোল খেলায় থাকবেনা মাতামাতি, রং খেলায় হবে না কোন চ চাঞ্চল্য । বরং পরিশীলিত এবং মার্জিত রূচিবোধের অভাবে রং খেলা হলে , হবে খুনোখুনি কিংবা রংএর বদলে রক্ত গঙ্গা বইবে। মোটর সাইকেলে ট্রিপল ক্যারি করে বন্ধুকে নিয়ে কানে আই-পড লাগিয়ে বিকট চিত্কার করে দোল খেলা চলবে বহুত রাত অবধি, কো-এড কলেজে আবীরের বদলে সিঁদুর চলবে, অথবা দোলখেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধু-বন্ধুতে ঝগ্ড়া এমন পর্য্যায় চলে যাবে যা থেকে অয্থা প্রাণ হারাবে একটি বন্ধু অপর বন্ধুর গুলিতে। কত স্বামী-স্ত্রী তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদের পরে স্মরণ করবে তাদের একটুকরো দোলের "একটুকু ছোঁয়া লাগে"র সুখস্মৃতি;

আজকের কালের আবর্তণে ঘুরন্ত পৃথিবীর ছুটন্ত মানুষের উত্তেজনা, উদ্দীপনা-বহুল দোল মানে হাতে বিয়ারের ক্যান কিংবা শপিংমলে কিছুক্ষণ !!!

Wednesday, February 24, 2010

তুলনাহীনা রে

 (পর্ব ৪)

আমার কল্পনাট্যের কুশীলব শ্রেয়সী- সোহম সে ফাগুনের এক ভোরে 
বায়ুপথে পাড়ি দিল ডালাস থেকে নিউইয়র্ক 
সেখান থেকে একটা গাড়ি নিয়ে সোজা ওয়াশিংটন ডিসির রাজপথে.. 
ডিসির রাজপথ হোয়াইট হাউসের রাজকীয় শুভ্রতায় কি অসাধারণ শন্তিময়তা 
বাইরের সবুজ লনে কি সুন্দর সজীবতা সাথে গেরুয়া মরশুমি ফুলের উজ্জ্বলতা 
এই তিন রঙ মনে করিয়ে দিল শ্রেয়সী কে তার নিজের দেশমাতৃকার কথা, 
মনে মনে সে প্রনাম জানাল তার নিজের ত্রিরঙা কে 
ক্যাপিটল হিলের কাছে লিংকন মেমোরিয়াল 
চির শুভ্রতায় জ্বাজ্জল্যমান  এব্রাহাম লিংকনের স্মৃতি নিয়ে,  
সেখান থেকে তারা গেল ন্যাশানাল মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে 
সেই বহু বিতর্কিত এবং অভিশপ্ত হোপ ডায়মন্ড দেখে আসে তারা 
ন্যাশানাল গ্যালারি অফ আর্ট থেকে এয়ার এন্ড স্পেস মিউজিয়ামে এল 
তারা ঝুলন্ত ছোট বড় কত কত উড়োজাহাজের মডেল, আর তার বিবর্তন 
তার মধ্যে থেকেই উঠে এল স্মৃতির মণিকোঠা থেকে 
রাইট ব্রাদার্সের হাতে তৈরী প্রথম প্লেনের মডেল 
ক্লাস নাইনের ফিসিক্স ব‌ইয়ের সেই ছবি 
আজ ত্রিমাত্রিক মডেল হয়ে ঝুলছে চোখের সামনে 
শ্রেয়সী-সোহম বাকরূদ্ধ হয়ে যায় " এও দেখা হয়ে গেল তাহলে!"
ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশানাল গ্যালারী অফ আর্ট এ এসে পৌঁছায় তারা 
সোহমের বহু প্রতিক্ষীত ভাবনালোকের রূপসাগর
সোহমের মুখ থেকে শুনে শুনে শ্রেয়সীও ডুব দিল সেই রূপসাগরে 
ইম্প্রেশানিস্ট, স্যুরিয়ালিস্টিক সবরকমের পেন্টিংয়ের সাথে হাতেখড়ি হল তার ! 
Matisse, Rennoir, Claude Monet, Van Gogh, Paul Gauginর গল্পে 
মাত হয়ে গেছিল আর্ট গ্যালারির প্রতিটি করিডোর ! 
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হোল Da Vinciর আর এক বিরল সৃষ্টি দেখে 
যা মোনা লিসার থেকে কোন অংশে কম নয় 
মোনালিসার হাসি নেই তাতে কিন্তু সেই ভয় মিশ্রিত গাম্ভীর্য্য 
অনবদ্য লাগল তাদের 
বিদায়ের সময় শ্রেয়সীর মনে হল 
ডিসি তুমি দিগবসনা, সবুজ আঁচল শুভ্ররাজবেশে ছড়িয়ে দিয়েছো নীলের দিগন্তে 
সৌন্দর্য তোমার অলংকার, রাজকীয়তা তোমার মজ্জাগত, নিয়ম শৃঙ্খলা তোমার সহজাত, 
বেঁচে থাকো ডিসি তোমার অমলিন স্বর্গীয় রাজকীয়তা নিয়ে