Saturday, February 27, 2010

WISHING YOU ALL A VERY "HAPPY HOLI"


বসন্ত মানেই কৃষ্ণচূড়া , পলাশ, শিমূল ও অশোকের রেঙে ওঠা প্রকৃতি। বসন্ত মানেই সেই আগুণে মেতে ওঠা, দখিনা বাতাসের উড়নী গায়ে জড়িয়ে আবীরে মাখামাখি, বসন্ত মানেই মনের দোলা, ফাগুনের সকালে দোল খেলার পালা। আজ আমাদের দোল একটু ভিন্ন স্বাদের । একালের দোল আর সেকালের দোলে আকাশ্-পাতাল তফাত। আজ আমাদের দোলে পাড়ার কচি-কাঁচারা দোল খেলেনা,বরংএকটু ছুটির আমেজে দেরি কোরে ঘুম থেকে উঠে হোমওয়ার্ক করার প্রস্তুতি নে য়। কারন এখনকার দোলে সব স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলতে থাকে। তাই তাদের কোন উপায় থাকে না। ছোট বেলায় বাড়ীতে সত্যনারায়্ণ পূজো হতে দেখেছি। ভোর থেকেই পূজোর গোছগাছ, স্নান সেরে ফাঁকে ফাঁকে একেওকে আবীর দেয়া, গুরুজনদের পায়ে আবীর দেয়া ও গৃহদেবতার ছবিতে আবীর দিয়ে প্রণাম করা ..

কিন্ত কোথায় আজ আমাদের দোল? আমদের দোলে আজ ফুট্-কড়াই-মুড়কি-মঠ এর স্থান নেই; ছেলেরা বাজারে গিয়ে রঙীন মঠ কেনার বায়না করে না। বরং এগরোল, বার্গার বা পিত্জা চায়।

আজ আমাদের দোলে সান্ধ্য অধিবেশনে ফাগফাগুয়ার খেলা চলার পর সাদা পাথরের গ্লাসে সিদ্ধির সরবতের বদলে স্থান করে নিয়েছে সুদৃশ্য কাট্-গ্লাসের সুরাপাত্রের রেড্-ওয়াইন। আমাদের প্রজন্ম দোলের মাহাত্ম্য বোঝে কিনা জানিনা তবে বিশ্বায়নের আবীর গায়ে মেখে কেবল্ টিভি , মোবাইল ফোন্, আইপড্, এফ্-এম রেডিও এবং যন্ত্রজালে  প্রচুর গবেষ
ণা চালিয়ে যচ্ছে।

এখন আবীরের রং এর বিভিন্নতা ও প্লাস্টিক পিচকারির বৈচিত্র্য দেখে ছোটোবেলার জন্য মন কেমন করে কিন্ত আমাদের রং এ ছিল আরো উজ্জ্বলতা ও গন্ধে ছিল আরো মাদকতা।

আমরা ছোট ছোট নিউক্লিয়ার পরিবারের সদস্য, দোল উপভোগ করবই বা কার সংগে ? র্ংই বা দেব কার গায়ে? আমার গায়ে রং দেবে এমন সময়ই বা আছে কার্? র্ং খেলে সময় নষ্ট না করে কিশোররা এখন নেট সার্ফিং করে, "সোশাল নেটওয়ার্কিং" সাইটে ঢুকে র্ং খেলে, বন্ধুকে ই-গ্রিটিংস পাঠায় দোলের জন্য ; বা এস্-এম্-এস্-এ হোলির শুভেচ্ছা জানায়। আরো পাকা-পোক্তো হলে মাল্টিপ্লেকসে ঘুরে বেড়িয়ে চাড্ডি ফাস্ট ফুড খেয়ে দেয়ে দিব্যি করে বাড়ী ফেরে। দোল কেবলই ছুটির দিন একটা।

যেসব বাড়ীতে দোলের বৈঠকী বসে তারা অবশ্যই এর ব্যতিক্রম। সেখানে গানের আড্ডা বসে সকাল থেকে, যেখানে ব্রজগোপীদের র্ং খেলা থেকে শুরু করে গৌর আবির্ভাব্, পুরাতনী, রবীন্দ্র্নাথ্, নজরুল সকলকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়ে। আজ আমাদের দোলের আগের রাতে ন্যাড়া-পোড়া হাতে গোনা যায়। পর্যাপ্ত প্লাসটিক পূর্ণ পরিবেশে ন্যাড়া-পোড়া নিষিদ্ধ। বিদায়ী বসন্তের সাথে সাথে পুরানো আবর্জ্জনার দহন পরিবেশকে কিছুটা মুক্ত করে "মুছে যাক্ গ্লানি" , ঘুচে যাক্ মলিনতার সংগে নতুন বছরকে "এসো হে বৈশাখের" বার্তা শোনাতে পারত, কিন্ত আজকের দিনে ন্যাড়া-পোড়া আযোজন করবে কে? কোথায় বা আছে খোলা মাঠ?

এখনকার ট্রেন্ডি-টিনরা এসব নিয়ে মোটেই মাথা ঘামায়না। আমরা কত উন্নত ও যান্ত্রিক হয়েছি আজ। Motion-এর চাপে সব Emotion উবে গেছে কর্পূরের মত ।দোল প্রতি বছর পরিযায়ী পাখীর মত আসবে আবার চলেও যাবে। কিন্ত দোল খেলায় থাকবেনা মাতামাতি, রং খেলায় হবে না কোন চ চাঞ্চল্য । বরং পরিশীলিত এবং মার্জিত রূচিবোধের অভাবে রং খেলা হলে , হবে খুনোখুনি কিংবা রংএর বদলে রক্ত গঙ্গা বইবে। মোটর সাইকেলে ট্রিপল ক্যারি করে বন্ধুকে নিয়ে কানে আই-পড লাগিয়ে বিকট চিত্কার করে দোল খেলা চলবে বহুত রাত অবধি, কো-এড কলেজে আবীরের বদলে সিঁদুর চলবে, অথবা দোলখেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধু-বন্ধুতে ঝগ্ড়া এমন পর্য্যায় চলে যাবে যা থেকে অয্থা প্রাণ হারাবে একটি বন্ধু অপর বন্ধুর গুলিতে। কত স্বামী-স্ত্রী তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদের পরে স্মরণ করবে তাদের একটুকরো দোলের "একটুকু ছোঁয়া লাগে"র সুখস্মৃতি;

আজকের কালের আবর্তণে ঘুরন্ত পৃথিবীর ছুটন্ত মানুষের উত্তেজনা, উদ্দীপনা-বহুল দোল মানে হাতে বিয়ারের ক্যান কিংবা শপিংমলে কিছুক্ষণ !!!

Wednesday, February 24, 2010

তুলনাহীনা রে

 (পর্ব ৪)

আমার কল্পনাট্যের কুশীলব শ্রেয়সী- সোহম সে ফাগুনের এক ভোরে 
বায়ুপথে পাড়ি দিল ডালাস থেকে নিউইয়র্ক 
সেখান থেকে একটা গাড়ি নিয়ে সোজা ওয়াশিংটন ডিসির রাজপথে.. 
ডিসির রাজপথ হোয়াইট হাউসের রাজকীয় শুভ্রতায় কি অসাধারণ শন্তিময়তা 
বাইরের সবুজ লনে কি সুন্দর সজীবতা সাথে গেরুয়া মরশুমি ফুলের উজ্জ্বলতা 
এই তিন রঙ মনে করিয়ে দিল শ্রেয়সী কে তার নিজের দেশমাতৃকার কথা, 
মনে মনে সে প্রনাম জানাল তার নিজের ত্রিরঙা কে 
ক্যাপিটল হিলের কাছে লিংকন মেমোরিয়াল 
চির শুভ্রতায় জ্বাজ্জল্যমান  এব্রাহাম লিংকনের স্মৃতি নিয়ে,  
সেখান থেকে তারা গেল ন্যাশানাল মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে 
সেই বহু বিতর্কিত এবং অভিশপ্ত হোপ ডায়মন্ড দেখে আসে তারা 
ন্যাশানাল গ্যালারি অফ আর্ট থেকে এয়ার এন্ড স্পেস মিউজিয়ামে এল 
তারা ঝুলন্ত ছোট বড় কত কত উড়োজাহাজের মডেল, আর তার বিবর্তন 
তার মধ্যে থেকেই উঠে এল স্মৃতির মণিকোঠা থেকে 
রাইট ব্রাদার্সের হাতে তৈরী প্রথম প্লেনের মডেল 
ক্লাস নাইনের ফিসিক্স ব‌ইয়ের সেই ছবি 
আজ ত্রিমাত্রিক মডেল হয়ে ঝুলছে চোখের সামনে 
শ্রেয়সী-সোহম বাকরূদ্ধ হয়ে যায় " এও দেখা হয়ে গেল তাহলে!"
ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশানাল গ্যালারী অফ আর্ট এ এসে পৌঁছায় তারা 
সোহমের বহু প্রতিক্ষীত ভাবনালোকের রূপসাগর
সোহমের মুখ থেকে শুনে শুনে শ্রেয়সীও ডুব দিল সেই রূপসাগরে 
ইম্প্রেশানিস্ট, স্যুরিয়ালিস্টিক সবরকমের পেন্টিংয়ের সাথে হাতেখড়ি হল তার ! 
Matisse, Rennoir, Claude Monet, Van Gogh, Paul Gauginর গল্পে 
মাত হয়ে গেছিল আর্ট গ্যালারির প্রতিটি করিডোর ! 
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হোল Da Vinciর আর এক বিরল সৃষ্টি দেখে 
যা মোনা লিসার থেকে কোন অংশে কম নয় 
মোনালিসার হাসি নেই তাতে কিন্তু সেই ভয় মিশ্রিত গাম্ভীর্য্য 
অনবদ্য লাগল তাদের 
বিদায়ের সময় শ্রেয়সীর মনে হল 
ডিসি তুমি দিগবসনা, সবুজ আঁচল শুভ্ররাজবেশে ছড়িয়ে দিয়েছো নীলের দিগন্তে 
সৌন্দর্য তোমার অলংকার, রাজকীয়তা তোমার মজ্জাগত, নিয়ম শৃঙ্খলা তোমার সহজাত, 
বেঁচে থাকো ডিসি তোমার অমলিন স্বর্গীয় রাজকীয়তা নিয়ে

Saturday, February 20, 2010

Test Post

Created on 21 02 2010
...........................

Saturday, February 13, 2010

প্রেমের দীপাবলী

এই তো সেদিন তোমার সাথে লুভার মিউজিয়ামের করিডোরে লুকিয়ে,
ভার্সাই প্যালেসের প্রতিটি দরজা, কাঁচ ছুঁয়ে,
এই তো সেদিন পৌষমেলায় টেরাকোটার চাঁদের হাটে...
আমার সবকিছু আজ দেব তোমায় আমার সব অহংকারের বোঝা, 
পাগলামি, পাপপুণ্যের ফিরিস্তি, ধোপা-কাগজওয়ালার হিসেব থেকে শুরু করে সব কিছু,

আমার অভিশপ্ত যৌবনের অঙ্গীকার,
আমার অস্পষ্ট কৈশোরের আবছায়ায় তুমি ছিলে একদিন
আজ আমার যা কিছু তা তোমার জন্যে  

প্রেমের দীপাবলী জ্বলছে চেয়ে দ্যাখো,
নানাদেশের বিচিত্র সব প্রেমের দেবদেবীরা
সেই প্রেমের যজ্ঞে আহুতি দিলেন ভ্যালেন্টাইন !
হৃদয়ের একূল ওকূল সব উজাড় করে দিলেন
আর দিলেন শীতের ওম্‌, বসন্তের কোকিলের গান
প্রেমের শতদলেরা জেগে উঠল....
ছাড়পত্র পেল তোমার ঘরে যাবার

যে নীল এতদিন খুঁজেছিলাম ল্যাবটারির কপার সালফেটের কাঁচের শিশিতে
সেই নীল আজ আমার,
যে সবুজ এতদিন ছিল ফেরাস সালফেটের ক্রিস্টালে
তা এখন আমার মনে,
সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর ধূলোপড়া জার্নালে খুঁজেছো আমায়,
খুঁজেছো ব্যস্ত কফি হাউসের নিঃস্ব টেবিলে 
আজ আমি শুধুই তোমার,
দূর থেকে দন্ডায়মান ভ্যালেন্টাইন আশির্বাদ করুণ !
বেঁচে থাকুক সব প্রেম-অপ্রেম, সব স্মৃতি-বিস্মৃতি
রডোডেন্ড্রণের উদ্ধত শাখার শিখর আলোকিত করে 

বেঁচে থাক প্রেমের কবিতারা
সেই সব অমিত লাবণ্যেরা, মালতীবালা স্কুলের সেলাই দিদিমণিরা
আর বেচারা বেণীমাধবেরা

Monday, January 25, 2010

নয়নভুলানো এলে

পর্ব (৩)

একদিন তারা পাড়ি দিল  লুইসিয়ানা স্টেটের পুরোণো শহর নিউঅর্লিন্সের পথে,
ফ্রেঞ্চকোয়ার্টার ছিল এককালে, তাই ফরাসী ঐতিহ্য বহমান এখনো রাস্তার মাঝে
ধারে ধারে ক্ষুদে চিত্রশিল্পীদের শিল্পকলা, বাদ্যশিল্পীর জ্যাজ অনুশীলন,
প্রাসাদোপম অট্টালিকার আধুনিক বুটিকে রূপান্তকরণ 
যেন অধুনা অমুক নং বালিগঞ্জ প্লেস অথবা তমুক নং ল্যান্সডাউন টেরেসে
নামজাদা ডিজাইনার বুটিক!
আর তারা দেখলো নয়নভোলানো সব আর্টগ্যালারি,
মিসিসিপিবক্ষে ভেসেছিল সেদিন দুজনে..
শ্রেয়সীর ভূগোল ব‌ইয়ের ইতিহাস আজ তার সামনে দিয়ে বয়ে চলেছে
স্রোতের সুর তুলে নীলঘাগরার কুঁচি লুটিয়ে,
মিসিসিপির ডেকে বসে দেখেছিল সূর্যাস্তের লাল রঙ
ওপারের সেন্ট পিটার্স ক্যাথিড্রাল সাক্ষী হয়ে দেখেছিল সে বিকেলে
সোহম্‌-শ্রেয়সীর প্রেমের পরব !
চমকে গিয়েছিল তারা নিউঅর্লিন্সের বুকে লাল ট্রাম দেখে,
মজার শহর নিউঅর্লিন্স সকলে নিজের খেয়ালখুশিতে চলে

কোনো সময়ের অভাব নেই, নেই কোনো একঘেয়েমি 
কোনোবাড়ির পোর্টিকোতে গীটারে জ্যাজ বাজায় তরুণ,
কোথায় আবার বিউগল বাজিয়ে ভিক্ষা চাইছে যুবক,
কোথাও আবার একর্ডিয়ানে সুর তুলতে ব্যস্ত কোনো শিল্পী
সেন্টপিটার্স স্কোয়ারে নামা-অনামা কত শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী চলছে,
যেন  ফ্রান্স শহরের পুরোনো সাবেকিয়ানা এখনো ব‌ইছে 

নিউঅর্লিন্সের কোণায় কোণায়,
শহরের প্রাণকেন্দ্র ল্যাটিন কোয়ার্টার "Vieux Carre" 

আজও ফরাসীয়ানায় অমলিন
রাস্তায় ঘোড়ার গাড়ি, সাবেকি স্ট্রীটল্যাম্প 

বিখ্যাত বুরবন স্ট্রীট আজও ব্যস্তময়!বর্ণময়
সোহম্‌ সেদিন শ্রেয়সীকে টেকিলা উইথ মার্গারিটা খাইয়েছিল, 

এখানকার বিশেষ পানীয়
সেদিন প্লেটে সুসজ্জিত কেজুন রাইস আর ক্রফিস কারি নিয়ে 

তারা পৌঁছে গেছিল পার্কস্ট্রীটের চাইনিস রেস্তোরাঁয়, এক নস্টালজিয়ায়....
মিসিসিপিকে বিদায় জানাতে বড় কষ্ট হয়েছিল শ্রেয়সীর,
মনে মনে বলেছিল ঠিক এমন করেই থেকো তুমি যেমন আজ আছো,
তোমার আকাশ আমার আকাশের চেয়েও নীল দেখে যাচ্ছি
তোমার জলের রং আমার চোখের তারায় ধরে নিয়েছি
তোমার আকাশে সেদিন দেখেছি পড়ন্ত সূর্য়ের লাল-কমলার খেলা
জলের ওপরে সেই ছায়া আর তার ওপরে আমাদের ছবি
তা তুমিও কিন্তু রেখো ধরে সুন্দর করে.. 
শহর নিউঅর্লিন্সকে বলেছিল যদি তুমি হারিয়ে যাও একদিন
যদি কোনো বিধ্বংসী ঝড় এসে তোমায় গ্রাস করে নেয় 

তোমার ঋণ আমি শোধ করতে পারবো না,
তুমি হয়ত তলিয়ে যাবে 

কিন্তু আমার মনের ক্যানভাসে তুমি বেঁচে থাকবে চিরসুন্দর হয়ে 
 

Thursday, January 21, 2010

মধুরাতি হবে ভোর


পর্ব ১

প্রেমের জোয়ারে 
 

১৯৮৯ র ফাল্গুন, ২৩য়ের উদ্ভিন্নযৌবনা শ্রেয়সী,
বিয়ের অষ্টমঙ্গলা সেরে মধুচন্দ্রিমা...
সুদূর ডালাসে পাড়ি দেওয়া,
অপরিচিত, অজানা অথচ অতি কাছের
জীবনের প্রথম প্রেমিকের সাথে,
বহু প্রতীক্ষিত বায়ুপথে ভ্রমণ..
বিমানবন্দর থেকে একে একে চোখের বাইরে চলে গেল
মা, বাবা আর ভাইয়ের ছলছল চোখ,
শ্রেয়সীর চোখে তখন ব‌ইছে আনন্দাশ্রু,
নিমেষে কষ্ট উধাও হয়ে গেল, 
হাত ধরল কাছের মানুষটি,
অনাবিল আনন্দে হারিয়ে গেল তারা । 
 

বিশ্বভরা প্রাণ 

আমেরিকার মাটিতে পা দিয়েই শ্রেয়সীর মনে হল
ঈশ্বরের আশীর্বাদ ধন্য এই দেশ,
কত সুন্দর সৌজন্যবোধ মানুষের, সুন্দরের সত্য পূজারী তারা,
তারা কত রুচিশীল, সত্যিই তারা গড়তে জানে নিজেদের
আর ভালবাসে তাদের দেশকে, 
রক্ষা করতে পারে ভগবানের সৃষ্টিকে,
আর নিজেদের সৃজনশীলতাকে বিকশিত করে,
উজাড় করে দিতে পারে বিশ্বের দরবারে;
তুমি বলবে কৃত্রিমতা এ শতাব্দীর অভিশাপ
শ্রেয়সী তা বিশ্বাস করেনা,
কৃত্রিমতা যদি উন্নতি ঘটায় তাহলে বাধা কোথায়?
বিজ্ঞান যদি কাজের বন্ধু হয় তাহলে আপত্তি কিসে ?
সৃষ্টিসুখের উল্লাসে আমরা বাঁচিনা একটু সহজ করে, সাবলীল ভাবে!
আসলে যে দেশের নাগরিকের চিন্তাধারা সুস্থ, যারা সভ্যতায় পরিপুষ্ট,
বিধাতাপুরুষ বোধ হয় দুহাত তুলে তাদের আশীর্বাদ করেন..
প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য্যে, প্রাকৃতিক জলবায়ুর মিষ্টতায় 
দেশের মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে রোজ তারা প্রণাম জানায় দেশমাতৃকাকে|


পর্ব ২
ধরা দিয়েছি গো  
 
ভোরবেলা শ্রেয়সীর কিচেনের ব্লাইন্ডস সরিয়ে
ক্লিফব্রুক কন্ডোমিনিয়ামসের পার্কিং লটে তাকিয়ে থাকা
সার সার গাড়ির ছাদে দুধসাদা বরফের চাদর
তার সাথে সূর্যের আলোর মাখামাখি,  
সেই জানলা দিয়েই রোজ সোহম্‌কে বাই করা,
২৭য়ের সুপুরুষ সোহম্‌ ম্যানেজমেন্ট স্কুলে তখন,
দুপুরবেলা বান্ধবীদের সাথে শপিংমলের হাতেখড়ি  
একরাশ বিদেশী পারফিউমের গন্ধ নিয়ে ফিরে আসা,
বিকেল হলেই নতুন জলখাবার তৈরী আর সোহমের জন্য প্রতীক্ষা...
তারপর শ্রেয়সী রোজ চোখ রেখেছে অপার বিস্ময়ে,
কখনো ডালাস ডোমের মাথায় গরম কফি হাতে,  
কখনো টাইলার রোজ গার্ডেনের গোলক ধাঁধায়,
কখনো নেচে উঠেছে তার প্রাণ টার্নার ঝোরার ধারে,
গুহার ভেতর জাপটে ধরেছে তার সঙ্গী মনের মানুষটিকে,
গেয়ে উঠেছে মুক্তির আনন্দে, নেচে উঠেছে ঝোরার জলের ছন্দে,
ল্ংড্রাইভে এল্.বি.জে এক্সপ্রেস ওয়ের ওপর
কতবার ছুটেছিল তাদের সাদা মাজদা ৬২৬
শ্রেয়সীর খোলাচুল উড়ে এসে পড়েছিল তার প্রিয় পুরুষটির কাঁধে
ডালাসের ফাগুনে সেদিন ছিল শ্রেয়সীর প্রেমের আগুণ, প্রাণের মূর্ছনা   
রিচার্ডসনের রাস্তা, প্লেনোর পথঘাট সে ফাগুনে দেখেছিল নতুন বসন্ত  (ক্রমশঃ)

Thursday, January 14, 2010

পুরুষের প্রকৃতি


যদি বলি আকাশ মাঝে কিসের এত আলো, কেন‌ই বা সেই আলোয় দেখি ঝলক,
তুমি বলবে সেই আলোর‌ই মাঝে আছে যেন নতুন প্রাণের চমক |
যদি বলি সবুজ ছোঁবে নীলের সীমা, সাদায় বাঁধা শুক্লাতিথির আলো,
আমার হাতে তোমার হাতের ছোঁয়া, সঙ্গে শুধু প্রেমের আগুন জ্বালো |
ভোরবেলাতে বালক আলোর তুমি, আমি তখন পাখির গানের সুরে,
তোমার আলোয় আমার ফুলের দেশে পাপড়ি মেলে কিম্বা ঝোরে পড়ে |
বেলার শেষে দুপুর নৌকাখানি ক্লান্ত স্রোতে ভাটিয়ালির সুরে,
আমার নদীর নরম ঠান্ডা হাওয়া তোমার ডিঙি আলগোছে পার করে |
বিকেলবেলায় কাজের খেয়া নদীর তীরের কাছে আসে,
দুজনাতে একটু দেখা, দুই প্রাণেরই সরলরেখায়, দুজনাতে বসে পাশে,
অস্তাচলে সন্ধ্যারাগের রাগরাগিনী বাজাও তুমি,
পূব আকাশে চাঁদের হাসি মাখিয়ে ক্লান্ত পায়ে চলি আমি |
তোমার আমার বাড়ি, মেঘেরা তার ওপর বাঁধে ঘর,
সেই ঘরের‌ই ছাদের পরে মেঘ ভেসে যায় কোন সুদূরে,
তোমার আমার চেনা সেই পথ |
যদি বলি একটু সবুজ করে ভেবো আমায়,
যা তুমি চাও দেবো তোমায় আমি,
কৃষ্ণচূড়ার আগুণ দেখে এসে ভুলোনা কো আমার সবুজ সে মন |


picture courtesy : Niren Sengupta